<p><b>বোস্টনে ঘুরে বেড়াচ্ছে এক বিকারগ্রস্থ খুনি...</b></p><p>নৃশংস সেই খুনি নিশানা করছে নারীদের। গভীর রাতে চুপিচুপি ঢুকে পড়ছে তাদের অ্যাপার্টমেন্টে, শুরু করে এক ভয়ংকর, প্রায় ধর্মীয় আচার-অনুরূপ নিপীড়নের খেলা। সবশেষে নিঃশেষ করে দেয় জীবনের শেষ আলোটুকুও। শল্যচিকিৎসকের মতো নিখুঁত হাতের ছাপ দেখে পুলিশ সন্দেহ করে, সে হয়তো একজন ডাক্তার—কিন্তু যে জীবন বাঁচায় না, জীবন কেড়ে নেয়। খুনের রহস্য উদঘাটনে নামে বোস্টন পুলিশ বিভাগের হোমিসাইড গোয়েন্দা থমাস মুর আর তার সঙ্গী জেন রিজোলি। তাদের তদন্ত এগোতেই এক চমকপ্রদ সত্য উদঘাটিত হয়। এই খুনের ঘটনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছেন একজন নারী—ক্যাথরিন করডেল। মিস করডেল সুন্দরী ও দক্ষ একজন চিকিৎসক, কিন্তু তার অতীত ধোঁয়াটে আর রহস্যে ঘেরা। দুই বছর আগে, এক ভয়াবহ ধর্ষণের শিকার হন তিনি। তবে হার মানেননি—নিজ হাতে গুলি করে মেরে ফেলেন সেই নরপিশাচকে। কিন্তু মৃত মানুষ কি কখনও আবার ফিরে আসতে পারে? ক্যাথরিনের মনে হতে থাকে—যাকে সে মেরে ফেলেছিল দুই বছর আগে, সেই মৃত মানুষটা আজ তাকে অনুসরণ করছে, নজর রাখছে তার প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর। আর এবার… সে ঠিক জানে, ক্যাথরিনকে কোথায় খুঁজে পাওয়া যাবে। </p>
টেস গেরিটসেন (জন্ম ১৯৫৩) একজন প্রখ্যাত মার্কিন লেখিকা ও সাবেক চিকিৎসক। তিনি মেডিকেল থ্রিলার ও ক্রাইম ফিকশনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তার রিজোলি অ্যান্ড আইলস (Rizzoli & Isles) সিরিজ ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং এটি অবলম্বনে একটি সফল টেলিভিশন সিরিজও নির্মিত হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞান ও গভীর গবেষণাকে গল্পের সঙ্গে মিশিয়ে তিনি পাঠকদের জন্য তৈরি করেছেন রোমাঞ্চকর ও রহস্যঘন উপন্যাস। তার বইগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রকাশিত হয়েছে এবং বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
সমকালীন সেরা তরুণ অনুবাদকদের মধ্যে রুদ্র কায়সার অন্যতম। শব্দের কারুকাজ আর মূল ভাষার ভাবের প্রতি একনিষ্ঠতা তার অনুবাদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ আর বিশ্বসাহিত্যের বিচিত্র স্বাদ বাংলাভাষী পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাড়না থেকেই তার অনুবাদ যাত্রার শুরু। অযথা আক্ষরিক অনুবাদের বেড়াজালে আটকে না থেকে মূল লেখকের দর্শন ও প্রেক্ষাপটকে অক্ষুণ্ণ রেখে সহজবোধ্য গদ্যে গল্প বলার এক সহজাত দক্ষতা তার রয়েছে। কেবল ভাষাান্তর নয়, বরং একটি সংস্কৃতির নির্যাসকে অন্য ভাষায় জীবন্ত করে তোলাই তার মূল লক্ষ্য। দেশি-বিদেশি সমকালীন সাহিত্য, থ্রিলার এবং জীবনঘনিষ্ঠ ধ্রুপদী রচনার প্রতি রুদ্র কায়সারের বিশেষ ঝোঁক রয়েছে। ব্যক্তিজীবনে তিনি মননশীল পাঠ ও সৃজনশীল কাজের সাথে সম্পৃক্ত। রুদ্র কায়সার বিশ্বাস করেন, অনুবাদ হলো দুটি ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে এক পলিমাটির সেতু, যা বিশ্বসাহিত্যকে স্থানীয় পাঠকদের হৃদয়ের খুব কাছে নিয়ে আসে। পাঠকের ভালোবাসাই তার নিরন্তর পথচলার প্রেরণা। প্রথম অনুবাদ আগাথা ক্রিস্টির ‘মার্ডার ইন মেসোপটেমিয়া’।
এই ফিল্টারে কোনো রিভিউ পাওয়া যায়নি।
আপনি যদি কাউকে মানসিক টর্চার করতে চান, তাহলে বইটা তাকে উপহার/পড়তে দিন! এছাড়া আর বলার মতো আছে, সম্পাদনাজনিত কিছু ত্রুটি আছে সম্পূর্ণ বইজুড়ে। বানান ভুল নেই যদিও, কিন্তু ছোট ছোট কিছু শব্দ মিসিং আছে; যেমন, ‘না’ শব্দটা বেশ কয়েক জায়গায় মিসিং। এছাড়া, ২২তম অধ্যায়ে ন্যারেশনে ডা. পিটারকে ‘মুর’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। বাদবাকি সবকিছু ছিল একদম টপ-নচ। বোহোর জন্য সবসময়ই শুভকামনা জানাই।
টেস গেরিটসেনের দ্য সার্জন এমন এক মেডিক্যাল ক্রাইম থ্রিলার, যা প্রথম পাতায় হাত থেকেই আমাকে এক দমবন্ধ করা সাসপেন্সে টেনে নিয়ে যায়। লেখিকার চিকিৎসা জ্ঞান ভালো, পুলিশি তদন্তের খুঁটিনাটি আর মনস্তাত্ত্বিক ভয়কে একসাথে বুনে এমনভাবে নিয়ে এসেছেন বাংলা অনুবাদেও সেই তীব্রতা বিন্দুমাত্র কমেনি। বইটির কেন্দ্রে রয়েছেন হার না মানা সার্জন ড. ক্যাথরিন কর্ডেল, যিনি কয়েক বছর আগে এক সিরিয়াল কিলারের হাত থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। তিনি ভেবেছিলেন তার দুঃস্বপ্ন শেষ নতুন করে সব শুরু করতে বোস্টনে আসেন কিন্তু নতুন শহর বোস্টনে এসে যখন পুরোনো কেসের হুবহু অনুরূপ হত্যাকাণ্ড শুরু হয়, তখন কর্ডেল বুঝে যায় কেউ একজন তার অতীতকে পুনর্জীবিত করছে। কেসটি হাতে পান ডিটেকটিভ থমাস মুর ও দৃঢ়চেতা, পুরুষ শাসিত পুলিশ ফোর্সে নিজের জায়গা করে নিতে লড়তে থাকা জেন রিজোলি। তদন্ত যত এগোয়, গেরিটসেন পাঠককে তত টেনশনের আর এক অচেনা আতঙ্কের সুড়ঙ্গে নামিয়ে নিয়ে যান। পুরোটা সময়ই একে ওকে আপনার দ্য সার্জন হিসেবে সন্দেহ হতে থাকবে। আমি নিজেও ৩-৪টা করছিলাম। গল্পের শক্তি শুধু নির্মম খুনি বা উত্তেজনাপূর্ণ তদন্ত নয় সাথে চরিত্রগুলোর আবেগ, ট্রমা আর ব্যক্তিগত লড়াই মিলে মিশে একাকার। রিজোলির রাগ, মুরের বিষণ্নতা ( ভাইয়ার বৌ মারা গেছে), ক্যাথরিনের ভয় সব মিলিয়ে বইটি কেবল থ্রিলার নয়, মানুষের ভেতরের ক্ষত নিয়েও। অনুবাদ সম্পর্কে: BoHo প্রকাশনী থেকে রুদ্র কায়সারের করা অনুমোদিত বাংলা অনুবাদটি বেশ সাবলীল। বিশেষ করে যে সব জায়গায় মেডিক্যাল টার্ম বা জটিল পদ্ধতির উল্লেখ আছে, সেসবই ফুটনোটে স্পষ্ট করা হয়েছে, নন মেডিকেল পাঠকের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এটি সত্যিই প্রশংসনীয়। অনুবাদে ভুল–ভ্রান্তি খুব কম, কেবল শেষের দিকে পিটার ও মুরের নাম এক–দু'বার উল্টে গেছে এবং দু–এক জায়গায় সম্পাদনার সামান্য ঘাটতি চোখে পড়ে। তবে এগুলো গল্পের গতি বা পাঠের আনন্দ নষ্ট করে না। যারা উত্তেজনাপূর্ণ, ডার্ক, গবেষণাধর্মী থ্রিলার পছন্দ করেন—বাংলা অনুবাদে দ্য সার্জন অবশ্যই তাদের সংগ্রহে থাকা উচিত।
দ্য সার্জন সম্পর্কে এক বাক্যে বলতে হয়, বইটা পড়তে পড়তে নিজের দরজার তালাটাও একবার দেখে নিতে হয়। কিছু থ্রিলার আছে, যেগুলো পড়ার সময় আপনি রহস্যের সমাধান খুঁজতে থাকেন। আর কিছু থ্রিলার আছে, যেগুলো পড়তে পড়তে আপনার মনে হয়, পরের বার দরজায় শব্দ হলে আমি কি সত্যিই উঠে গিয়ে দেখব? টেস গেরিটসেনের ‘দ্য সার্জন’ হলো দ্বিতীয় ধরনের বই। বোস্টনে একের পর এক নারী খুন হচ্ছে। হত্যাকারী নিখুঁতভাবে কাজ করে। তার হাতে আছে সার্জনের দক্ষতা, মাথায় ভয়ংকর এক বিকৃত মানসিকতা। সংবাদমাধ্যম তাকে নাম দিয়েছে দ্য সার্জন। কিন্তু তদন্ত যত এগোয়, ততই পরিষ্কার হয় যে এটা নিছক একজন সিরিয়াল কিলারের গল্প নয়। দুই বছর আগে ডা. ক্যাথরিন করডেল নিজেই প্রায় একই ধরনের এক ভয়ংকর হামলার শিকার হয়েছিলেন। আত্মরক্ষা করতে গিয়ে তিনি তার হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন। এরপর তিনি জীবনটাকে নতুন করে গুছিয়ে নিয়েছেন একজন সফল ট্রমা সার্জন হিসেবে। কিন্তু বোস্টনে নতুন হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটতে শুরু করার পর অতীত যেন আবার ফিরে আসে। আর সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, নতুন হত্যাকারী যেন ক্যাথরিনের সেই পুরোনো দুঃস্বপ্নের প্রতিটি খুঁটিনাটি জানে। এখানেই গেরিটসেনের সবচেয়ে বড়ো সাফল্য। তিনি হাসপাতাল, অপারেশন থিয়েটার, জরুরি চিকিৎসা আর ফরেনসিক বাস্তবতাকে গল্পের বাইরে রাখেননি। বরং সেগুলোই হয়ে উঠেছে থ্রিলারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। লেখকের চিকিৎসাবিজ্ঞানের পেশাগত অভিজ্ঞতা গল্পের মেডিক্যাল অংশগুলোকে বিশ্বাসযোগ্যতা দিয়েছে। আর সেই কারণেই অপারেশন থিয়েটারের দৃশ্যগুলো শুধু তথ্যসমৃদ্ধ নয়, ভীষণ টানটানও। তবে ‘দ্য সার্জন’-এর আসল শক্তি শুধু খুনের বর্ণনায় নয়। এর আসল শক্তি ভয় তৈরি করার ক্ষমতায়। খুনি কখন আসবে, কাকে টার্গেট করবে, ক্যাথরিনের সঙ্গে তার সম্পর্কটা আসলে কী, এই প্রশ্নগুলো গল্পের সঙ্গে সঙ্গে পাঠককেও ক্রমশ অস্বস্তির মধ্যে ঠেলে দেয়। গেরিটসেন এমনভাবে উত্তেজনা তৈরি করেন যে, অনেক সময় হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যের চেয়েও বেশি ভয় লাগে তার আগের নীরবতাকে। আর সেই নীরবতার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সবচেয়ে বড়ো আতঙ্ক। জেন রিজোলি চরিত্রটিও আলাদা করে মনে রাখার মতো। কঠিন, জেদি, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং নিজের জায়গা তৈরি করতে মরিয়া এই গোয়েন্দার উপস্থিতি গল্পে অন্য মাত্রা যোগ করে। তার সঙ্গে থমাস মুরের তদন্ত এবং ক্যাথরিনের ব্যক্তিগত ট্রমা, সব মিলিয়ে ‘দ্য সার্জন’ শুধু ‘কে খুনি?’-র গল্প হয়ে থাকে না; এটি হয়ে ওঠে ভয়, ট্রমা, প্রতিরোধ এবং বেঁচে থাকার গল্প। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, বইটি পড়ার সময় আপনি বারবার ভাববেন, আমি খুনিকে ধরে ফেলেছি। তারপর কয়েক পৃষ্ঠা পরেই বুঝবেন, না আপনি ভুল পথে হাঁটছিলেন। এই জায়গাটাতেই গেরিটসেন পাঠককে শক্ত করে ধরে রাখেন। দ্রুত গতি, চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিখুঁত আবহ, পুলিশি তদন্ত, মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন আর ক্রমশ ঘন হতে থাকা ভয়, সবকিছু মিলে ‘দ্য সার্জন’ সত্যিই একটি দুর্দান্ত মেডিক্যাল ক্রাইম থ্রিলার। এটি সেই ধরনের বই, যার শেষ কয়েকটি অধ্যায় পড়ার সময় আপনি হয়তো গতি কমাতে চাইবেন না। কারণ তখন আপনার মাথায় একটাই প্রশ্ন থাকবে, পরের শিকার কে? আর বইটা শেষ করার পর হয়তো আরও একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরবে, রাতে ঘুমানোর আগে দরজাটা ঠিকমতো লক করেছি তো? উপন্যাস এতটাই গতিশীল যে অনুবাদের দিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগই মেলেনি। বানান ভুল কয়টা ছিল, বা আর কোনো অসংগতি ছিল কিনা, এসব নিয়ে ভাবার সুযোগই মেলেনি। পুরোটা সময় সম্পূর্ণ মনোযোগ ছিল গল্পের কাহিনিতে। গুড জব বোহো।
বইটি প্রকাশিত/স্টকে এলে আপনাকে ইমেইলে জানিয়ে দেব। নিচে আপনার ইমেইল দিন।