<p>আজ এম-কে চিরদিনের ন্যায় বিদায় জানানোর দিন। কবরের পাশে সবাই দাঁড়িয়ে থাকলেও একজন মানুষের বড়োই অভাব আজ। সেই বিশ্বাসঘাতক আজ এখানে অনুপস্থিত, যার আঙুলের চাপে ট্রিগার চলেছিল। এম-কে খুনের দায়ে এখন সে শ্রীঘরে। সেই লোকটা আর কেউ নয়—জেমস বন্ড।</p><p>লোহার পর্দার ওপারে পুরোনো শত্রু রাশিয়ার সংগঠন স্মার্শের চরেরা এক ভয়ানক ফন্দি এঁটেছে। তারা ব্রিটিশ এই গুপ্তচরকে দিয়ে এমন এক চাল চালতে চায়, যার দরুন সারা দুনিয়ার ক্ষমতার দাঁড়িপাল্লাটা উল্টে যাবে। বাঘের ডেরায় পা দিল বন্ড। কার হুকুম তামিল করছে সে? মোক্ষম সময় যখন আসবে, তখন কি সে আদেশ মেনে নেবে? না কি অন্য কিছু ঘটবে?</p><p>চারিদিকে কেবল বিশ্বাসঘাতকতার জাল। একটা পা ভুল জায়গাতে পড়লেই অবধারিত মৃত্যু। এই অভিযানে বন্ডের লড়াই কেবল শত্রুর সাথে নয়, নিজের মনের গহিন অন্ধকারের সাথেও। উত্তর না জানা প্রশ্নগুলো তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। আগের সেই জেমস বন্ড যে কোথায় হারিয়ে গেল, তা সে নিজেও জানে না। মানুষের পরিচয় কি তবে সময়ের সাথে সাথেই বদলে যায়?</p><p>মানুষের মন এক গহন অরণ্য। সেখানে কখন আলো আসে আর কখন অন্ধকার নামে, তা বোঝা দায়। নিজের সত্তাকে খুঁজে পাওয়ার এই লড়াই বড়োই করুণ।</p>
অ্যান্টনি হরোউইৎজ (জন্ম ১৯৫৫) একজন খ্যাতিমান ব্রিটিশ লেখক ও চিত্রনাট্যকার। তিনি রহস্য, থ্রিলার ও কিশোর সাহিত্য রচনার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তার জনপ্রিয় Alex Rider সিরিজ তরুণ পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এছাড়া তিনি শার্লক হোমস ও জেমস বন্ডের মতো বিখ্যাত চরিত্রকে কেন্দ্র করে নতুন উপন্যাস লিখে বিশেষ প্রশংসা পেয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে দ্য ওয়ার্ড ইজ মার্ডার, ম্যাগপাই মার্ডারস, দ্য সেন্টেন্স ইজ ডেথ, আ লাইন টু কিল এবং উইথ আ মাইন্ড টু কিল। টেলিভিশনের জন্যও তিনি বহু সফল চিত্রনাট্য লিখেছেন।
সমকালীন সেরা তরুণ অনুবাদকদের মধ্যে রুদ্র কায়সার অন্যতম। শব্দের কারুকাজ আর মূল ভাষার ভাবের প্রতি একনিষ্ঠতা তার অনুবাদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ আর বিশ্বসাহিত্যের বিচিত্র স্বাদ বাংলাভাষী পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাড়না থেকেই তার অনুবাদ যাত্রার শুরু। অযথা আক্ষরিক অনুবাদের বেড়াজালে আটকে না থেকে মূল লেখকের দর্শন ও প্রেক্ষাপটকে অক্ষুণ্ণ রেখে সহজবোধ্য গদ্যে গল্প বলার এক সহজাত দক্ষতা তার রয়েছে। কেবল ভাষাান্তর নয়, বরং একটি সংস্কৃতির নির্যাসকে অন্য ভাষায় জীবন্ত করে তোলাই তার মূল লক্ষ্য। দেশি-বিদেশি সমকালীন সাহিত্য, থ্রিলার এবং জীবনঘনিষ্ঠ ধ্রুপদী রচনার প্রতি রুদ্র কায়সারের বিশেষ ঝোঁক রয়েছে। ব্যক্তিজীবনে তিনি মননশীল পাঠ ও সৃজনশীল কাজের সাথে সম্পৃক্ত। রুদ্র কায়সার বিশ্বাস করেন, অনুবাদ হলো দুটি ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে এক পলিমাটির সেতু, যা বিশ্বসাহিত্যকে স্থানীয় পাঠকদের হৃদয়ের খুব কাছে নিয়ে আসে। পাঠকের ভালোবাসাই তার নিরন্তর পথচলার প্রেরণা। প্রথম অনুবাদ আগাথা ক্রিস্টির ‘মার্ডার ইন মেসোপটেমিয়া’।
এই ফিল্টারে কোনো রিভিউ পাওয়া যায়নি।
বন্ড ভক্তদের জন্য এক অনন্য উপহার অ্যান্টনি হরোউইৎজের অফিসিয়াল জেমস বন্ড থ্রিলার ‘উইথ আ মাইন্ড টু কিল’। ইয়ান ফ্লেমিংয়ের মূল ধারা ও আবহ বজায় রেখে লেখা এই উপন্যাসটির গল্প শুরু হয় জেমস বন্ডের হাত ধরে তার বস ‘এম’-এর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর। এই খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত বন্ড নিজেই! স্নায়ুযুদ্ধের উত্তপ্ত আবহে বন্ডকে রাশিয়ান সিক্রেট সার্ভিস সোভিয়েত ইউনিয়নে নিয়ে যায় এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের ঘুঁটি বানাতে। ব্রেনওয়াশিং, ছদ্মবেশ এবং দ্বিমুখী চালে ভরপুর এই স্পাই থ্রিলারে বন্ড কি সত্যিই বিশ্বাসঘাতক, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো সুদূরপ্রসারী চাল? আর এই প্রশ্নকে ঘিরে গল্প এগিয়ে চলে তীব্র গতিতে, যা পাঠককে একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনায় রাখে। বইটির অনুবাদ এককথায় দুর্দান্ত! অ্যান্টনি হরোউইৎজের ক্লাসিক স্পাই থ্রিলারের গাম্ভীর্য, স্নায়ুযুদ্ধের আবহে ঘেরা জটিল রহস্য এবং বন্ডের ট্রেডমার্ক ব্যক্তিত্বকে অনুবাদক রুদ্র কায়সার ও শোভন নবী অত্যন্ত নিখুঁত আর সাবলীল বাংলায় ফুটিয়ে তুলেছেন। মূল উপন্যাসের গতি এবং রোমাঞ্চ বাংলা অনুবাদে এতটুকুও ভাটা পড়ে না।
বইটি প্রকাশিত/স্টকে এলে আপনাকে ইমেইলে জানিয়ে দেব। নিচে আপনার ইমেইল দিন।