এক গোপন সম্পদ। এক বিস্মৃত সত্য। <br>কটন ম্যালোন বিপদে পড়েছে। তার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে, কোপেনহেগেনে তার বইয়ের দোকানে হয়েছে হামলা। আর এই সবকিছুর মূলে রয়েছে একটি গোপন সূত্র 'আলেকজান্দ্রিয়া লিংক'। ম্যালোনই বর্তমান বিশ্বের একমাত্র ব্যক্তি, যিনি জানেন প্রাচীন জ্ঞানের সেই শ্রেষ্ঠ ভাণ্ডারের খোঁজ কীভাবে মিলবে। পনেরোশ বছর আগে কোনো চিহ্ন না রেখেই পৃথিবী থেকে হারিয়ে গিয়েছিল সেই কিংবদন্তি আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি। <br>এখন সেই বিশাল সাহিত্য-ভাণ্ডারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক ধ্রুব সত্যের সন্ধানে নামতে বাধ্য হয়েছেন ম্যালোন। এমন এক সত্য, যা একবার প্রকাশ্যে এলে কেবল ম্যালোনের জীবনই নয়, বরং বদলে যেতে পারে সারা বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্য।
স্টিভ বেরি (জন্ম ১৯৫৫) একজন জনপ্রিয় মার্কিন লেখক, যিনি ইতিহাসভিত্তিক থ্রিলার উপন্যাসের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তিনি বিশেষভাবে তার কটন মালোন সিরিজের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছেন, যেখানে ইতিহাস, রাজনীতি, গুপ্ত রহস্য ও অ্যাডভেঞ্চারের সমন্বয় দেখা যায়। তার বইগুলো বিশ্বের বহু দেশে প্রকাশিত হয়েছে এবং বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে দ্য টেম্পলার লেগেসি, দ্য কলম্বাস অ্যাফেয়ার, দ্য কিং'স ডিসেপশন এবং দ্য মাল্টা এক্সচেঞ্জ। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি ঐতিহাসিক গবেষণা ও সংরক্ষণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত।
মো. ফুয়াদ আল ফিদাহ-এর জন্মগ্রহণ করেছেন ২৫ জুন, ১৯৮৮ সালে, তার নানা বাড়ি সিরাজগঞ্জে। বাবা পেশায় ইঞ্জিনিয়ার ও মা গৃহিণী। জীবনের প্রথম অংশটুকু কেটেছে পাটগ্রাম আর চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে। রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এস.এস.সি. এবং রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ থেকে এইচ.এস.সি. পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এম. বি. বি. এস. পাশ করেন। লেখালেখিতে তিনি আসেন মূলত শখের বশে।
এই ফিল্টারে কোনো রিভিউ পাওয়া যায়নি।
দ্য আলেকজান্দ্রিয়া লিংক — স্টিভ বেরি কটন ম্যালোন পড়েছে এক ভয়াবহ বিপদে। তার প্রাক্তন স্ত্রী হঠাৎ এসে জানায়—তাদের ছেলে গ্যারি অপহৃত হয়েছে। আর অপহরণকারীদের দাবি একটাই—তারা চায় “দ্য আলেকজান্দ্রিয়া লিংক”-এর হদিস। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই আলেকজান্দ্রিয়া লিংক সম্পর্কে তারা জানল কীভাবে? কারণ এই রহস্যের অস্তিত্ব সম্পর্কে খুব অল্প কয়েকজন জানে, আর ম্যালোনের কাছে থাকা একটি সুরক্ষিত ফাইলই যেন এই রহস্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। কিন্তু একসময় দেখা যায়, সেই ফাইলের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে কেউ সেটি ঘেঁটে গেছে। অর্থাৎ ম্যালোনের অজান্তেই কেউ একজন এই রহস্যের খুব কাছে পৌঁছে গেছে। এবার ম্যালোনের সামনে দুটি লক্ষ্য—ছেলেকে উদ্ধার করা এবং আলেকজান্দ্রিয়া লিংককে ভুল মানুষের হাতে পড়তে না দেওয়া। কিন্তু বিষয়টি যত এগোতে থাকে, ততই বোঝা যায়—এটা নিছক কোনো হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক নিদর্শনের অনুসন্ধান নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রাচীন ইতিহাস, ধর্ম, রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বহু পুরোনো এক অমীমাংসিত প্রশ্ন। এমন কিছু সত্য যদি প্রকাশ্যে আসে, যার ইঙ্গিত এই রহস্যের ভেতরে লুকিয়ে আছে, তাহলে তার প্রভাব শুধু কয়েকজন মানুষের ওপর নয়—পুরো পৃথিবীর ওপর পড়তে পারে। স্টিভ বেরির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো, তিনি ইতিহাসের বাস্তব ঘটনা, ধর্মীয় ইতিহাস এবং নিজের কল্পনাকে এমনভাবে মিশিয়ে দেন যে পাঠকের মনে বারবার প্রশ্ন জাগে—কোনটা ইতিহাস, আর কোনটা লেখকের কল্পনা? আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি—প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম কিংবদন্তিতুল্য জ্ঞানভাণ্ডার। সেই হারিয়ে যাওয়া লাইব্রেরির সঙ্গে যদি এমন কোনো তথ্যের যোগসূত্র থাকে, যা ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসকে নতুনভাবে দেখতে বাধ্য করতে পারে—তাহলে সেই সত্য কতটা বিস্ফোরক হতে পারে? বইটি এগোতে এগোতে সামনে আসে আরও কিছু গভীর প্রশ্ন—কেনান ভূমি আসলে কোথায়? প্রাচীন হিব্রু ধর্মগ্রন্থের মূল বক্তব্য আর পরবর্তী অনুবাদের মধ্যে কতটা পার্থক্য রয়েছে? ইতিহাসের কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কি সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে, নাকি এর পেছনে ছিল আরও বড় কোনো উদ্দেশ্য? তবে দ্য আলেকজান্দ্রিয়া লিংক শুধু ইতিহাসের রহস্য নয়। এটি একই সঙ্গে একটি দ্রুতগতির থ্রিলার—যেখানে ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা, অপহরণ, গুপ্ত তথ্য এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল সমীকরণ একে অন্যের সঙ্গে মিশে যায়। এখানে কাকে বিশ্বাস করা যায় আর কাকে যায় না—সেটাও অনেক সময় বোঝা কঠিন। সবচেয়ে ভালো লেগেছে, বইটি ইতিহাসকে শুধু অতীতের গল্প হিসেবে উপস্থাপন করেনি; বরং দেখিয়েছে, অতীতের কোনো গোপন সত্য কীভাবে বর্তমান পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিতে পারে। স্টিভ বেরি বাস্তব ইতিহাসের ওপর কল্পনার একটি উত্তেজনাপূর্ণ আবরণ চাপিয়ে তৈরি করেছেন এমন এক রহস্য, যার উত্তর খুঁজতে খুঁজতে পাঠক বারবার ফিরে তাকাতে চাইবে ইতিহাসের পাতায়। যারা ইতিহাস, ধর্মীয় রহস্য, প্রাচীন সভ্যতা, ষড়যন্ত্র এবং দ্রুতগতির অ্যাডভেঞ্চার থ্রিলার পছন্দ করেন—তাদের জন্য “দ্য আলেকজান্দ্রিয়া লিংক” হতে পারে বেশ জমজমাট একটি পাঠ। আর বইটি শেষ করার পর হয়তো আপনার মাথায়ও একটি প্রশ্ন ঘুরবে— ইতিহাসে আমরা যা জানি, তার বাইরেও কি আরও কিছু সত্য লুকিয়ে আছে?
ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং দমবন্ধ করা থ্রিলের এক অনবদ্য ককটেল স্টিভ বেরির কটন ম্যালোন সিরিজের দ্বিতীয় বই ‘দ্য অ্যালেক্সান্দ্রিয়া লিংক’। প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম, অ্যালেক্সান্দ্রিয়ার সুবিশাল লাইব্রেরি কি সত্যিই সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, নাকি তার অমূল্য জ্ঞানভাণ্ডার আড়াল করে রাখা হয়েছে রহস্যের আড়ালে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই ঘটনার ঘূর্ণাবর্তে জড়িয়ে পড়ে সাবেক এজেন্ট কটন ম্যালোন। নিজের ছেলেকে অপহরণের পর ম্যালোনকে বাধ্য করা হয় প্রাচীন সেই লাইব্রেরির অবস্থান অনুসন্ধানে নামতে। বাইবেলের মূল পাঠ, ভূ-রাজনীতি এবং হাজার বছরের পুরনো এক গোপন সংগঠনের মারমুখী প্যাঁচের মাঝে টিকে থাকার এই লড়াই পাঠককে একমুহূর্তের জন্যও স্বস্তি দেয় না। বইটির অনুবাদ নিয়ে না বললেই নয়। এককথায় দুর্দান্ত! জটিল প্রত্নতাত্ত্বিক পরিভাষা, প্রাচীন প্যাপিরাসের সংকেত এবং গতিময় অ্যাকশন দৃশ্যগুলোকে অনুবাদক মো. ফুয়াদ আল ফিদাহ্ অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও ধারালো বাংলায় রূপান্তর করেছেন।
বইটি প্রকাশিত/স্টকে এলে আপনাকে ইমেইলে জানিয়ে দেব। নিচে আপনার ইমেইল দিন।