<p><b>তিনটি উপন্যাস:</b><br>১. ট্রিগার মরটিস<br>২. ফরএভার অ্যান্ড আ ডে<br>৩. উইথ আ মাইন্ড টু কিল<br><br><b>সাথে থাকছে:</b><br><i>১. একটি উডেন বুকমার্ক<br>২. ছয়টি ক্যারেকটার কার্ড<br>৩. রঙিন এন্ড পেপার<br>৪. একটি রঙিন পোস্টার</i></p>
অ্যান্টনি হরোউইৎজ (জন্ম ১৯৫৫) একজন খ্যাতিমান ব্রিটিশ লেখক ও চিত্রনাট্যকার। তিনি রহস্য, থ্রিলার ও কিশোর সাহিত্য রচনার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তার জনপ্রিয় Alex Rider সিরিজ তরুণ পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এছাড়া তিনি শার্লক হোমস ও জেমস বন্ডের মতো বিখ্যাত চরিত্রকে কেন্দ্র করে নতুন উপন্যাস লিখে বিশেষ প্রশংসা পেয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে দ্য ওয়ার্ড ইজ মার্ডার, ম্যাগপাই মার্ডারস, দ্য সেন্টেন্স ইজ ডেথ, আ লাইন টু কিল এবং উইথ আ মাইন্ড টু কিল। টেলিভিশনের জন্যও তিনি বহু সফল চিত্রনাট্য লিখেছেন।
সমকালীন সেরা তরুণ অনুবাদকদের মধ্যে রুদ্র কায়সার অন্যতম। শব্দের কারুকাজ আর মূল ভাষার ভাবের প্রতি একনিষ্ঠতা তার অনুবাদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ আর বিশ্বসাহিত্যের বিচিত্র স্বাদ বাংলাভাষী পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাড়না থেকেই তার অনুবাদ যাত্রার শুরু। অযথা আক্ষরিক অনুবাদের বেড়াজালে আটকে না থেকে মূল লেখকের দর্শন ও প্রেক্ষাপটকে অক্ষুণ্ণ রেখে সহজবোধ্য গদ্যে গল্প বলার এক সহজাত দক্ষতা তার রয়েছে। কেবল ভাষাান্তর নয়, বরং একটি সংস্কৃতির নির্যাসকে অন্য ভাষায় জীবন্ত করে তোলাই তার মূল লক্ষ্য। দেশি-বিদেশি সমকালীন সাহিত্য, থ্রিলার এবং জীবনঘনিষ্ঠ ধ্রুপদী রচনার প্রতি রুদ্র কায়সারের বিশেষ ঝোঁক রয়েছে। ব্যক্তিজীবনে তিনি মননশীল পাঠ ও সৃজনশীল কাজের সাথে সম্পৃক্ত। রুদ্র কায়সার বিশ্বাস করেন, অনুবাদ হলো দুটি ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে এক পলিমাটির সেতু, যা বিশ্বসাহিত্যকে স্থানীয় পাঠকদের হৃদয়ের খুব কাছে নিয়ে আসে। পাঠকের ভালোবাসাই তার নিরন্তর পথচলার প্রেরণা। প্রথম অনুবাদ আগাথা ক্রিস্টির ‘মার্ডার ইন মেসোপটেমিয়া’।
এই ফিল্টারে কোনো রিভিউ পাওয়া যায়নি।
সত্যি বলতে বাংলায় জেমস বন্ডের তেমন একটা ভালো অনুবাদ নেই, তাই ভেবেছিলাম যে বোহোর এই ট্রিলজিটি কিনবো না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিনেই ফেললাম, আর সত্যি বলতে এই অনুবাদটি ছিল এক কথায় অসাধারণ। আর বোহোর প্রোডাকশন কোয়ালিটিকে যতই বলি না কেন তা কমই হবে
বইঃ জেমস বন্ড ট্রিলোজি মূলঃ অ্যান্টনি হরোউইৎজ অনুবাদঃ রুদ্র কায়সার, শোভন নবী প্রকাশনীঃ বোহো মুদ্রিত মুল্যঃ ১৭৪০/- কেমন লাগলো বইটি? এই সংকলনে জেমস বন্ডের তিনটি স্বতন্ত্র উপন্যাস রয়েছে। ইয়ান ফ্লেমিংয়ের মৃত্যুর পর অনেক লেখকই জেমস বন্ডকে নিয়ে লিখেছেন। কিন্তু অ্যান্টনি হরোউইৎজের এই ট্রিলোজি পড়ে মনে হয়েছে, তিনি বন্ডকে নতুন করে তৈরি করার চেষ্টা করেননি। বরং ফ্লেমিং যেখানে থেমেছিলেন, সেখান থেকেই গল্পগুলো এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আমি চেষ্টা করব এই তিনটি আলাদা বইয়ের রিভিউ দেওয়ার। আগেই বলে রাখি আমি খুব ভালো রিভিউয়ার নই, তাই অনুরোধ থাকবে ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি এই বই তিনটি ফরএভার অ্যান্ড আ ডে, ট্রিগার মরটিস এবং উইথ আ মাইন্ড টু কিল এই সিকুয়েন্সে পড়েছি। 📖 ফরএভার অ্যান্ড আ ডে: জেমস বন্ডের গল্পে যারা নতুন কিছু খুঁজছেন, তাদের জন্য ফরএভার অ্যান্ড আ ডে বেশ ইন্টারেস্টিং একটা বই। কারণ এখানে সেই পরিচিত, আত্মবিশ্বাসী ০০৭-কে দেখা যায় ঠিকই, কিন্তু তিনি এখনও নিজের যাত্রার শুরুর দিকে। বইটার গতি ট্রিগার মরটিস এর মতো দ্রুত নয়। বরং অ্যান্টনি হরোউইৎজ এখানে গল্পকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছেন। তদন্ত, চরিত্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক, সন্দেহ, আর পরিবেশ—এসবের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। তাই শুরুতে বইটা একটু স্লো বার্ন মনে হতে পারে, কিন্তু কয়েক অধ্যায় পরেই বোঝা যায়, এই ধীর গতি আসলে গল্পেরই অংশ। এতে করে উত্তেজনাটা হঠাৎ আসে না; বরং ধীরে ধীরে জমতে থাকে, আর শেষ পর্যন্ত তার প্রভাবও বেশি থাকে। আমার কাছে বইটার আরেকটা ভালো দিক হলো, হরোউইৎজ বন্ডকে অযথা আধুনিক করার চেষ্টা করেননি। আবার শুধু পুরনো দিনের নস্টালজিয়ার ওপরও ভরসা করেননি। তিনি ক্লাসিক বন্ডের আবহ, সংযত রসবোধ, আর সেই পরিচিত স্পাই-ফিকশনের টানটান পরিবেশটা ধরে রেখেছেন, কিন্তু গল্প বলার ভঙ্গিটা নিজের মতো করে সাজিয়েছেন। ফলে বইটা পড়তে গিয়ে মনে হয়, এটা শুধু অতীতের বন্ডকে ফিরিয়ে আনা নয়—বরং সেই চরিত্রকে নতুন করে বোঝার একটা চেষ্টা। বাংলা অনুবাদটাও বেশ ভালো লেগেছে। ভাষাটা সাবলীল, পড়তে সহজ, আর মূল বইয়ের আবহ ধরে রাখার চেষ্টা স্পষ্ট। কোথাও অপ্রয়োজনীয় ভারী শব্দের চাপ নেই, আবার খুব বেশি সরলও হয়ে যায়নি। বিশেষ করে সংলাপ আর বর্ণনার ভারসাম্য ভালোভাবে রাখা হয়েছে, ফলে ইংরেজি স্পাই-ফিকশনের যে নির্দিষ্ট ছন্দ, সেটা বাংলা পাঠেও বেশ স্বাভাবিকভাবে আসে। অনুবাদক মূল টোনটা ধরে রেখে পাঠযোগ্যতা নষ্ট করেননি—এটাই এই সংস্করণের বড় শক্তি। 📖 ট্রিগার মরটিস: জেমস বন্ডকে নিয়ে ইয়ান ফ্লেমিংয়ের পর অনেক লেখক লিখেছেন। কিন্তু অ্যান্টনি হরোউইৎজের ট্রিগার মরটিস পড়ে মনে হয়েছে, তিনি বন্ডকে নতুন করে তৈরি করার চেষ্টা করেননি। বরং ফ্লেমিং যেখানে থেমেছিলেন, সেখান থেকেই গল্পটা এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এই বইয়ের বড় শক্তি সম্ভবত এখানেই—এটি পুরনো বন্ডের আবহকে ধরে রেখেও নিজের মতো করে দাঁড়াতে পারে। বইটার সবচেয়ে ভালো দিক আমার কাছে এর গতি। কোথাও অযথা তাড়াহুড়ো নেই, আবার এক মুহূর্তের জন্যও গল্প থেমে আছে বলে মনে হয়নি। কোল্ড ওয়ারের আবহ, মোটর রেসিং, গুপ্তচরবৃত্তি, আর সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের টানটান পরিবেশ—সব মিলিয়ে এমন একটা ক্লাসিক স্পাই থ্রিলারের স্বাদ পাওয়া যায়, যেটা এখন খুব বেশি দেখা যায় না। হরোউইৎজ অ্যাকশনকে শুধু দেখানোর জন্য ব্যবহার করেননি; বরং সেটাকে গল্পের ভেতরের উত্তেজনার সঙ্গে খুব সুন্দরভাবে মিশিয়ে দিয়েছেন। আরেকটা বিষয় ভালো লেগেছে, হরোউইৎজ ফ্লেমিংয়ের লেখার ধাঁচকে সম্মান জানিয়েছেন, কিন্তু সেটাকে নকল করার চেষ্টা করেননি। ফলে বন্ড এখানে পরিচিতও লাগে, আবার নতুন পাঠকের কাছেও সহজে ধরা দেয়। চরিত্রের আত্মবিশ্বাস, সংযত রসবোধ, আর পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা—এসবই যথাযথভাবে উপস্থিত, কিন্তু বাড়াবাড়ি নেই। তাই বইটা পড়তে পড়তে বারবার মনে হয়েছে, এটা নিজের পরিচয় নিয়েই দাঁড়িয়ে আছে। বাংলা অনুবাদটাও আলাদা করে বলার মতো। অনুবাদক মূল লেখার ছন্দ আর আবহ ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন, যা এই ধরনের বইয়ের ক্ষেত্রে খুব জরুরি। জেমস বন্ডের সংলাপ, বর্ণনার সংযম, আর ইংরেজি স্পাই-ফিকশনের নির্দিষ্ট টোন—এসব বাংলা ভাষায় সহজ করে তোলা সহজ কাজ নয়। এখানে সেই ভারসাম্য মোটামুটি ভালোভাবেই রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও মূল ইংরেজি গদ্যের আবহটুকু টের পাওয়া যায়, কিন্তু সেটা বইয়ের স্বাদ নষ্ট করেনি; বরং মূল টেক্সটের কাছাকাছি থাকার একটা সুবিধাই দিয়েছে। 📖 উইথ আ মাইন্ড টু কিল: তিনটি বইয়ের মধ্যে উইথ আ মাইন্ড টু কিল আমার কাছে সবচেয়ে আলাদা লেগেছে। কারণ এখানে অ্যান্টনি হরোউইৎজ অ্যাকশনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বন্ডের ভেতরের চাপ, সন্দেহ আর সিদ্ধান্তের ভারকে। ফলে বইটা শুধু একটা স্পাই থ্রিলার হয়ে থাকে না, বরং একজন গুপ্তচরের মানসিক অবস্থারও একটা ধীর, কিন্তু তীক্ষ্ণ পাঠ হয়ে ওঠে। কাহিনি শুরু হয় The Man with the Golden Gun এর সমাপ্তির পর। গল্পের শুরু থেকেই একটা অস্বস্তি কাজ করে। কে কোন পক্ষের, কার উদ্দেশ্য কী, কাকে বিশ্বাস করা যায়—এসব প্রশ্নের উত্তর সহজে মেলে না। এই অনিশ্চয়তাই উপন্যাসটাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। বড় বড় দৃশ্যের চেয়ে ছোট ছোট পর্যবেক্ষণ, সংলাপ আর নীরব উত্তেজনার ওপর ভর করেই হরোউইৎজ গল্পকে টানটান রেখেছেন। তাই বইটা পড়তে গিয়ে বারবার মনে হয়েছে, এখানে ঘটনাপ্রবাহের চেয়ে পরিবেশটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই বইটার সবচেয়ে ভালো দিক হলো, এটি জেমস বন্ডকে শুধু একজন অ্যাকশন হিরো হিসেবে দেখায় না। তাঁর পেশার চাপ, সিদ্ধান্তের দায়, আর ভেতরের দ্বন্দ্ব—এসবও গল্পের অংশ হয়ে ওঠে। বন্ড এখানে আগের মতোই দক্ষ, কিন্তু একই সঙ্গে ক্লান্ত, সতর্ক এবং অনেক বেশি মানবিক। এই দিকটা উপন্যাসটিকে অন্য দুই বইয়ের তুলনায় একটু বেশি পরিণত করে তুলেছে। বাংলা অনুবাদের কথাও আলাদা করে বলা দরকার। এই ধরনের বন্ড উপন্যাস অনুবাদ করা সহজ কাজ নয়, কারণ এখানে শুধু ঘটনাগুলো অনুবাদ করলেই চলে না—বন্ডের সংযত ভঙ্গি, ইংরেজি স্পাই ফিকশনের ঠান্ডা স্বর, আর সংলাপের ভেতরের সূক্ষ্ম ইঙ্গিতগুলোও ধরে রাখতে হয়। এই অনুবাদে সেই চেষ্টাটা স্পষ্ট। ভাষা খুব বেশি ভারী হয়ে যায়নি, আবার অতিরিক্ত সরলও নয়। ফলে মূল বইয়ের আবহ নষ্ট না হয়ে বাংলা পাঠকের জন্য তা স্বাভাবিকভাবে পৌঁছেছে। বিশেষ করে বন্ডের সংলাপ আর বর্ণনার টোনে যে সংযম দরকার, সেটা বেশ ভালোভাবেই বজায় রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে উইথ আ মাইন্ড টু কিল এমন একটা বই, যেটা দ্রুত শেষ হয়ে গেলেও সহজে ভুলে যাওয়া যায় না, এটি পরিচিত জেমস বন্ড চরিত্রটিকেই নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরে। সামগ্রিক মূল্যায়ন • গল্প: ৯.৫/১০ • অ্যাকশন: ৯/১০ • স্পাই থ্রিল: ১০/১০ • ফ্লেমিং-এর আবহ ধরে রাখা: ১০/১০ সবশেষে বোহো পাবলিকেশন নিয়ে দু-একটা কথা বলতেই হয়। আমাদের দেশে ভালো বইয়ের সঙ্গে ভালো প্রোডাকশন—দুটো একসঙ্গে সব সময় পাওয়া যায় না। কিন্তু বোহো এই জায়গাটায় ধারাবাহিকভাবে বেশ ভালো কাজ করছে। এই তিনটি বই হাতে নিয়েই প্রথম যে বিষয়টা চোখে পড়েছে, সেটা হলো প্রোডাকশনের প্রতি তাদের যত্ন। প্রচ্ছদের নকশা, কাগজের মান, ছাপার স্বচ্ছতা, টাইপসেটিং, এমনকি বাঁধাই—সবকিছুতেই একটা পরিমিত রুচির ছাপ আছে। পড়ার সময় বইটি হাতে আরামদায়ক লাগে, আবার পড়া শেষ হলে সংগ্রহে রাখতেও ভালো লাগে। একজন পাঠক হিসেবে আমার বিশ্বাস, একটি ভালো বইয়ের অভিজ্ঞতা শুধু গল্প বা অনুবাদের ওপর নির্ভর করে না; বইটি কীভাবে পাঠকের হাতে পৌঁছাচ্ছে, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই দিক থেকে বোহো পাবলিকেশন নিঃসন্দেহে দেশের অন্যতম সেরা মানের বই প্রোডাকশন করছে। ভবিষ্যতেও তাদের কাছ থেকে বিশ্বসাহিত্যের এমন যত্নশীল ও নান্দনিক সংস্করণ আরও বেশি দেখতে চাই।
বইটি প্রকাশিত/স্টকে এলে আপনাকে ইমেইলে জানিয়ে দেব। নিচে আপনার ইমেইল দিন।